বক্স অফিসে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে মাইকেল জ্যাকসন মুভি
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২১ এএম
জাফর জ্যাকসন অভিনীত ‘মাইকেল’’
বক্স অফিসে অসাধারণ সাফল্যের পথে ‘মাইকেল’ সিনেমার আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করা বাকি ছিল, এবং জনপ্রিয় এই মিউজিক বায়োপিকটি অবশেষে সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে।
‘কিং অফ পপ’ মাইকেল জ্যাকসনের ভাইপো জাফর জ্যাকসন অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০০ কোটি ডলার আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
১২ জুলাই ‘রেন্ট্রাক’ এর প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এই সপ্তাহান্তে বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি আরও ৫৫ লাখ (৫.৫ মিলিয়ন) ডলার আয় করেছে; এর ফলে বিশ্বব্যাপী এর মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ১ লাখ ৬৯ হাজার ১০০ ডলারে।
‘মাইকেল’-এর বক্স অফিস রেকর্ডের দীর্ঘ তালিকায় এটি সর্বশেষ সংযোজন। এর মাধ্যমে এটি ইতিহাসের প্রথম বায়োপিক হিসেবে ১০০ কোটি ডলার আয়ের রেকর্ড গড়ল। এর আগে জুন মাসে, ফ্রেডি মার্কারির জীবনী নিয়ে নির্মিত ২০১৮ সালের সিনেমা ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’-কে আয়ের দিক থেকে ছাড়িয়ে ‘মাইকেল’ সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী মিউজিক বায়োপিকের খেতাব অর্জন করেছিল। এছাড়া, এপ্রিলে মুক্তির সময় কোনো মিউজিক বায়োপিকের ক্ষেত্রে ‘মাইকেল’ সর্বকালের সেরা ‘ওপেনিং উইকেন্ড’ বা উদ্বোধনী সপ্তাহান্তের আয়ের রেকর্ডও গড়েছিল।
২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে। এর মধ্যে মাত্র তিনটি চলচ্চিত্র সিক্যুয়েল বা রিমেক নয়—যার একটি হলো “মাইকেল” বাকি দুটি হলো “দ্য সুপার মারিও ব্রোস. মুভি”। বক্স অফিস মোজোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে “মাইকেল” হলো দ্বিতীয় চলচ্চিত্র যা ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে; তবে এই বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র হিসেবে শীর্ষস্থানটি এখনো “দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি”-র দখলে, যার মোট আয় ১,০০৯,৫৯৯,৪৩৯ ডলার।
“মাইকেল” লায়ন্সগেট -এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্র এবং একই সাথে স্টুডিওটির প্রথম ১ বিলিয়ন ডলার আয় করা চলচ্চিত্র। এর আগে লায়ন্সগেটের সবচেয়ে সফল চলচ্চিত্র ছিল ২০১৩ সালের “দ্য হাঙ্গার গেমস: ক্যাচিং ফায়ার” যা ৮৬৫ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল।
পর্দায় পেছনের নানা অস্থিরতা—যা ‘মাইকেল’ চলচ্চিত্রটির নির্মাণকাজকেই ভেস্তে দেওয়ার উপক্রম করেছিল—তা বিবেচনা করলে এর সাফল্য আরও বেশি চিত্তাকর্ষক মনে হয়। ‘ভ্যারাইটি’-র তথ্যমতে, চলচ্চিত্রটিতে মূলত ১৯৯৩ সালে ১৩ বছর বয়সী জর্ডান চ্যান্ডলারকে জ্যাকসনের যৌন নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল; কিন্তু পরবর্তীতে এমন একটি আইনি চুক্তির কথা জানা যায় যা কোনো চলচ্চিত্রে চ্যান্ডলারকে তুলে ধরা নিষিদ্ধ করে, ফলে ছবিটির উল্লেখযোগ্য অংশের দৃশ্য পুনরায় ধারণ করার প্রয়োজন পড়ে। এর সমাধান হিসেবে ছবিটির কাহিনি ১৯৮৮ সালেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—অর্থাৎ জ্যাকসনের বিরুদ্ধে শিশু-যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার ঠিক পাঁচ বছর আগেই।
সমালোচকদের কাছে “মাইকেল” ছবিটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও দর্শকদের কাছে এটি বেশ ইতিবাচকভাবে গৃহীত হয়েছে। লায়ন্সগেট নিশ্চিত করেছে যে ছবিটির একটি সম্ভাব্য সিক্যুয়েল তৈরির কাজ চলছে; তবে এটি কবে মুক্তি পাবে কিংবা জ্যাকসনের জীবনের কোন কোন দিক এতে তুলে ধরা হবে, তা এখনও অজানা।
