শেষ মুহূর্তের ঝড়ে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ঢাকা টুডে ২৪ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার আনন্দে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই থামানো যাবে না—বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেই বিশ্বাসই আবারও সত্যি করল আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে ২–১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আগামী রোববার নিউ জার্সিতে শিরোপার লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির দল।
প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবলের চেয়ে শারীরিক লড়াই, ফাউল আর উত্তেজনাই ছিল বেশি। বিরতির আগে গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
৫৫ মিনিটে মর্গান রজার্সের নিখুঁত ক্রস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। সেই মুহূর্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ যেন ইংল্যান্ডের হাতেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ কয়েক মিনিটে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে আর্জেন্টিনা।
৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে বক্সের বাইরে দুর্দান্ত এক শটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও মেসির নিখুঁত ক্রস খুঁজে নেয় বদলি হিসেবে নামা লাওতারো মার্তিনেজকে। শক্তিশালী হেডে জালের ঠিকানা খুঁজে নিয়ে আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দেন আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে।
স্কোরলাইন যতটা সহজ মনে হয়, ম্যাচটি ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি নাটকীয়। ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালায়। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দুটি প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে, আর কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।
গোল করতে না পারলেও ম্যাচের সবচেয়ে প্রভাবশালী ফুটবলার ছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার দুটি গোলেরই কারিগর তিনি। ডান প্রান্তে অবিরাম আক্রমণ, নিখুঁত পাসিং এবং একের পর এক সফল ড্রিবলে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে বারবার বিপাকে ফেলেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। পুরো ম্যাচে তিনি করেন ৯টি সফল ড্রিবল এবং তৈরি করেন দুটি গোলের সুযোগ।
১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপের বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে নকআউট পর্বের এক ম্যাচে ৯টি সফল ড্রিবলের পাশাপাশি দুটি গোলে সরাসরি অবদান রাখার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন মেসি। ম্যাচ শেষে হাঁটু গেড়ে তাঁর আবেগঘন উদ্যাপন হয়তো বহুদিন ধরে বিশ্বকাপের স্মরণীয় ছবিগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
